Home » » স্বর্ণের জলাভূমি

স্বর্ণের জলাভূমি

পাহাড়ি ঝরনায় স্বর্ণরেণু ভেসে আসে এই শহরে! কথিত আছে বহু বছর আগে ইমুহোরি তগুরো নামের এক জাপানি কিংবদন্তি চাষি পাহাড়ে পাহাড়ে আলু আহরণ করে জীবন ধারণ করতেন। আর সেই আলুর গায়ে লেগে থাকা স্বর্ণের ধুলা তিনি ধুয়ে সাফ করতেন পাহাড়ি কূপে বা পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে আসা ঝরনার পানিতে। সেই কূপ বা ঝরনা এখনো কিনজু রেইতাকু নামে জাপানিদের কাছে বহুল পরিচিত। যুগ যুগ ধরে চাষি ইমুহোরির সেই পাহাড়ি অঞ্চলের নাম লোকমুখে কানাজাওয়া বা স্বর্ণের জলাভূমি হিসেবেই রয়ে যায়। এখনো জাপানের প্রায় ৯৫ ভাগের বেশি সোনার জোগান আশে কানাজাওয়ার স্বর্ণধুলিময় লিক্যার থেকে। এমনকি জাপানের কিয়াটো শহরের বিখ্যাত দ্য গোল্ডেন প্যালেসের' প্রায় সব স্বর্ণের প্রলেপই নাকি করা হয়েছে কানাজাওয়ার স্বর্ণধুলিময় লিক্যার ব্যবহার করে।

জার্মানির কোলাহলপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছরের মাস্টার্স ডিগ্রি শেষে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে যখন কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ছাত্র হিসেবে যোগ দিই, তখন মনে হয়েছে পাহাড়বেষ্টিত নিস্তব্ধ এক শহর। যেখানে পরবর্তী তিন বছর কী করে কাটাব, তাই নিয়েই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দিন দিন লক্ষ্য করছি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিস্তব্ধতার ভালো লাগায় মগ্ন হচ্ছি। এখানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ জনের মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে ক্যাম্পাস


এইতো কয়েক দিন আগে সকলের তৎপরতায় কানাজাওয়া স্পোর্টস ক্লাবের মনোরম পরিবেশে আয়োজন করা হয় নতুন আর পুরাতনের পরিচিতি আড্ডা। সকালে কয়েকটা গাড়িতে করে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় অনুষ্ঠানস্থলে। বারবিকিউ, খেলাধুলা আর আড্ডায় দিনব্যাপী চলে নতুন-পুরানের মেলবন্ধন। আশিক ভাইয়ের সুরেলা কণ্ঠে ক্ষণে ক্ষণে গেয়ে ওঠা বাংলা গানের লাইন মন ছুঁয়ে যায় সবার।
খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে দিনব্যাপী মাহিব ভাই, ফয়সাল, শাহ আলম ভাই আর মামুন ভাইদের ফটো শুটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। খুব চটপটে আর ক্রিকেট ভক্ত শফিক ভাই কিছুক্ষণ পর পর মজার সব জোকস নিয়ে হাজির হতেন। এর ফাঁকেই হয়ে যায় সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলা। যার আয়োজনে ছিলেন কানাজাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হাসিখুশি সুমন ভাই আর চুপচাপ রাসেল ভাই। সঙ্গে যোগ দেন প্রাণবন্ত ফয়সাল, শফিক আর মামুন ভাই। তালহা ভাইয়ের হাতের জাদু আর সময় নিয়ে পোড়ানো খাসির মাংসের স্বাদ বারবিকিউয়ে তৃপ্তি যেন বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েকগুণ।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ অবধি সোহেল ভাইয়ের ছোটাছুটি আর সবার খোঁজ খবর রাখা থেকে বাদ যায়নি কেউ। সঙ্গে ভাবির চঞ্চলতা আর সবাইকে নিয়ে ফটো শুটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। অপুদা আর রাখিদির দেরিতে আগমন হলেও প্রাণবন্ততায় মুখর করে রেখেছিলেন সারা দিন। সারা দিনই বারবিকিউ আর নুডলস রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকা আনোয়ার ভাই আর ভাবি সব শেষে হাজির হয়েছিলেন বিংগু খেলার আসর সাজিয়ে। সবাই কিছু না কিছু উপহার পেয়ে যার পর নাই খুশি। হঠাৎ রফিক ভাইয়ের ভরাট গলায় গেয়ে ওঠা বাংলা ছবির প্যারোডি গান সবার দৃষ্টি ফেরায় তাঁর দিকে। আনন্দে আড্ডায় পাহাড় ঘেরা স্পোর্টস ক্লাবে কখন যেন নেমে আসে সন্ধ্যা।

1 comments:

Popular Posts

Powered by Blogger.

Category

Most Viewed

Video Of the Day

Facebook

 
Copyright © 2014 Daily fresh news
Blogger Templates