Home » » শেষের ঝড়ে শেষের প্রতিরোধে নিউজিল্যান্ডের ৩৪১

শেষের ঝড়ে শেষের প্রতিরোধে নিউজিল্যান্ডের ৩৪১


সাকিব আল হাসানের শেষ ওভারটা হলো অদ্ভুত। প্রথম তিন বলেই ‘উইকেট’ পাওয়া বোলিং। প্রথমে ডিপে তাঁর ক্যাচ ফেললেন মোসাদ্দেক। দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লুর জোরালো আবেদন নাকচ হলো। তৃতীয় বলে আর রক্ষা পেলেন না কলিন মুনরো। এবার ক্যাচ পয়েন্টে তাসকিনের হাতে। ইনিংসের সেটা ৪৭তম ওভার। শেষ তিন ওভারে উজ্জীবিত প্রতিরোধ গড়লেন বাংলাদেশের বোলাররা। রানের পাহাড়ের দিকে ছুটতে থাকা নিউজিল্যান্ড অবশ্য শেষ চার ওভারে ২৯ তুলেও বাংলাদেশকে ছুড়ে দিল ৩৪২ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

৭ উইকেটে ৩৪১ বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় স্কোর। আগেরটি ছিল সেই ২৬ বছর আগে দুই দলের প্রথম দেখা হওয়া ম্যাচে। সেবার ১৫৮ রানের জুটি গড়েছিলেন মার্টিন ক্রো আর জন রাইট। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেটিও ছিল নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটি। আজও ঠিক ১৫৮ রানেরই একটা জুটি গড়ে দিল ইনিংসের ভিত্তি। পঞ্চম উইকেটে ওভারে নয়ের কাছাকাছি গড়ে এই রান যোগ করেছেন মুনরো-ল্যাথাম। মুনরো শেষ পর্যন্ত ৮৭ রান করে আউট হলেও নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা ১৩৭ রানে নিয়ে গেছেন টম ল্যাথাম।

১৫৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ডকে পথ হারাতে দেননি এই দুজনই। ওই অবস্থায় আর এক-দুটি উইকেট ফেলতে পারলে নিউজিল্যান্ড চাপে পড়ে যেত। কিন্তু বোলাররা সেভাবে রাশ টেনে ধরতে না পারায় উল্টো বাংলাদেশই চাপে পড়ে যায়। শেষ চার ওভারে অমন প্রতিরোধ না গড়লে স্কোরটা একসময় ৩৬০-৩৭০-এর পূর্বাভাসই কিন্তু দিচ্ছিল। ৪৭তম ওভারের আগের ৫ ওভারে যে নিউজিল্যান্ড তুলে ফেলেছিল ৬৭ রান। তবে তাতেও ক্রাইস্টচার্চের এ মাঠে নিউজিল্যান্ড সর্বোচ্চ ইনিংসটার রেকর্ড ছুঁল। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন কোনো সন্দেহ নেই। নিউজিল্যান্ডও ৩৩০ পেরোনো স্কোরে মাত্র একবারই হেরেছে এর আগে।

তবে ব্যাটিং নামার আগেই যেন বাংলাদেশকে ভয় পেয়ে না বসে। উইকেটে কোনো জুজু নেই। কন্ডিশন প্রতিকূল নয় মোটেও। মাঠও ছোট। কিন্তু স্কোরটাও যে অনেক বড়, তাও অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশের তিন শর বেশি লক্ষ্য ছোঁয়া জয় আছে তিনটি। তবে আশার কথা, এর একটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় বাংলাওয়াশ নিশ্চিত করেছিল ৩০৮ রানের লক্ষ্য মিলিয়ে দিয়েই।

এখন পর্যন্ত ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাওয়া অবশ্য মোস্তাফিজুর রহমানকে ফিরে পাওয়া। গত মার্চের পর আবার মাঠে ফিরছেন মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ও ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে পেসে বিভ্রান্ত করে গাপটিলকে সৌম্যের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম আঘাতও হেনেছেন। চোট পাওয়ার আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই শেষ ওয়ানডেটি খেলেছিলেন। প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য বোলিং ​​ফিগারটা মোস্তাফিজ–সুলভ নয়। ১০ ওভারে ৬২ রান দিয়ে ২ উইকেট। এই প্রথম গোটা ক্যারিয়ারেই ৬০ রান হজম করলেন কাটার মাস্টার।

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts

Powered by Blogger.

Blog Archive

Category

Most Viewed

Video Of the Day

Facebook

 
Copyright © 2014 Daily fresh news
Blogger Templates