রাখাইনে জাতিসংঘ ইইউ’র সম্পৃক্ততা চায় ওআইসি
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো বেশি সম্পৃক্ততার প্রস্তাব করেছে মুসলিম বিশ্বের জোট ওআইসি। সেখানে তাদের (রোহিঙ্গা) উন্নয়নে নেয়া পরবর্তী পদক্ষেপের সমন্বয়ে বিশেষত: ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দেখতে চায় ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রে বৈশ্বিক ওই জোট। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) মহাসচিবের উদ্যোগে ব্রাসেলস ও জেনেভায় সদ্য সমাপ্ত জরুরি বৈঠক থেকে ওই প্রস্তাব করা হয়। এদিকে রাখাইনে গণহত্যা বন্ধ এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশে সিঙ্গাপুরে ৮টি বেসরকারী সংগঠন (এনজিও) এক যৌথ প্রতিবাদ র্যালি করেছে। নিরীহ মুসলিম হত্যা বন্ধ করো (স্টপ কিলিং ইনোসেন্ট মুসলিম), গণহত্যা থামাও এবং রোহিঙ্গাদের হত্যা বন্ধ করো (স্টপ জেনোসাইড অ্যান্ড কিলিং অব রোহিঙ্গা), জাতিগত নিধন বন্ধ করো (স্টপ এথনিক ক্লিনজিনিং)- এমন মুহুর্মুহু স্লোগানে ৩ হাজার প্রতিবাদী মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই র্যালি থেকে রাখাইনে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়োগের দাবি উঠেছে। এ নিয়ে জাতিসংঘ এবং ওআইসিতে মালয়েশিয়া সরকার যেন সরব হয় দেশটির প্রতি সেই আহ্বানও জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনগুলো। তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ান থেকে মিয়ানমারকে বহিষ্কারের দাবিও করা হয়েছে মানবতাবাদী নাগরিকদের ওই প্রতিবাদ র্যালি থেকে।
ওআইসি বৈঠক: ‘ওআইসি গ্রুপস ইন জেনেভা অ্যান্ড ব্রাসেলস হোল্ড ইমার্জেন্সি মিটিংস অন ক্রাইসিস সিচুয়েশন ফেসিং দ্য রোহিঙ্গা অন মিয়ানমার’ শীর্ষক গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে জেদ্দাস্থ ওআইসি সেক্রেটারিয়েট। সেখানে জানানো হয়, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়ে ওআইসি মহাসচিবের ধারাবাহিক এবং প্রতিনিয়ত উদ্বেগের সূত্র ধরে সম্প্রতি (গত কয়েক দিনে) জেনেভা ও ব্রাসেলসে থাকা ওআইসি গ্রুপের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা জরুরি বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন। ওই বৈঠক দুটিতে রোহিঙ্গাদের সংকট উত্তরণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাগুলো চিহ্নিত করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী ১৭ই জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরে ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের কথা রয়েছে। সেই বৈঠককে সামনে রেখে গ্রুপের সদস্যা রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সম্ভাব্য ব্যবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা আশা করেন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এটি গৃহীত হতে পারে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- জেনেভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেখানে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি তাহমিনা জানজুয়া। আর ব্রাসেলসের বৈঠকটি চেয়ার করেন বেলজিয়ামে উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির নরোভ। দু’টি বৈঠকে ওআইসি’র জেনেভা ও ব্রাসেলসে স্থায়ী মিশনের প্রধানদ্বয় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ওআইসি সর্বশেষ যে সব পদেক্ষেপ নিয়েছে সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন। সিরিজ ওই আলোচনায় গ্রুপের সদস্যরা সামপ্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত ও ভাবনাগুলো বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলমান থাকায় তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের আচরণে তারা সর্বসম্মতভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওআইসি গ্রুপের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের সব ধরনের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা বিশেষ করে তাদের মৌলিক অধিকারসহ মুক্তভাবে যেন ধর্ম চর্চা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে দুর্ভোগের মধ্যে থাকা ওই সমপ্রদায়ের লোকজনের মৌলিক মানবাধিকার এবং মানবিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণ পরিকল্পনা দেখতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের ভিটায় ফিরতে পারে।ManabZamin24.12.16

0 comments:
Post a Comment