Home » » যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিক বহিষ্কার, উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিক বহিষ্কার, উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে একপ্রকার কূটনৈতিক মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্রেমলিন সমর্থিত হ্যাকারদের হস্তক্ষেপের জবাবে রাশিয়ার ৩৫ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘পারসনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়ার পাল্টা জবাব রাশিয়ার তরফে আসবে বলে ইঙ্গিত মিলছিল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ৩৫ মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন, তিনি এমনটা করবেন না। তার ভাষায়- ‘দায়িত্বহীন কূটনীতির’ পর্যায়ে নামবে না রাশিয়া। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফ।   
খবরে বলা হয়, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পাল্টা জবাবের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দায়িত্বহীন কূটনীতির পর্যায়ে না নেমে তিনি বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ করবেন। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিক বহিষ্কারের প্রত্যুত্তরে ৩৫ মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রস্তাব দেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন নির্বাচনে হ্যাকিংয়ে সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র করে আসছে তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। তাদের ভাষ্য, এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।
বহিষ্কৃত ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিক মূলত গুপ্তচর বা গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব কূটনীতিক ওয়াশিংটনে রাশিয়ান দূতাবাস ও সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত কনস্যুলেটে কর্মরত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আরো ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ান সরকারের মালিকানাধীন দুটি ভবনও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক ও ম্যারিল্যান্ডের ওই ভবন দুটি গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
এছাড়া, রাশিয়ার জিআরইউ ও এফএসবি গোয়েন্দা সংস্থা এবং ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন ওবামা। এ ছয় ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন জিআরইউ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল করোবভ ও তার তিন ডেপুটি। এ তালিকায় রয়েছেন আলেক্সেই বেলান ও ইয়েভজেনি বোগাচেভ নামে দুই রাশিয়ান, যাদের ওপর সাইবার অপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন এফবিআই’র পরোয়ানা ঝুলছে। নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে তিনটি কম্পিউটার কোম্পানি, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে জিআরইউকে সহায়তা দেয়ার।
এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে কীভাবে রাশিয়ার দুই গোয়েন্দা সংস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যাকিং চালিয়েছে।  
ওবামা বলেছেন, বহিষ্কৃত ৩৫ জন কূটনীতিক আসলে গোয়েন্দা কর্মী। লন্ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস একে ‘শীতল যুদ্ধকালীন দেজা ভু’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ধ্বংস করতে চায়। ওবামা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। বলেছেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ডে প্রত্যেক আমেরিকানের সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি আরো মন্তব্য করেছেন, যে হ্যাকিং হয়েছে, তা কেবল রাশিয়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনাতেই সম্ভব।
ওবামা বলেন, আমরা প্রকাশ্যে ও একান্ত আলোচনায় রাশিয়া সরকারকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে দেশটি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, রাশিয়ার আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের জবাবে আমাদের প্রতিক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। আমরা আমাদের পছন্দসই সময় ও স্থানে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রাখবো। এগুলোর কিছু কিছু হয়তো প্রচার করা হবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এবার হয়তো রাশিয়া সরকার নিজ কর্মকাণ্ডের যথার্থতা পুনর্বিচার করবে। তবে বহিষ্কৃতদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসল্যাককে রাখা হয়নি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার হ্যাকিংয়ের প্রমাণ শুনতে তিনি আগামী সপ্তাহে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের সামনে আরো বড় ও ভালো কিছু করার সময় এসেছে। কিন্তু এরপরও আমাদের দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবো। এ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে অবহিত হবো। তার অন্যতম সহযোগী কনওয়ে অবশ্য বলেছেন, তিনি এখনো মনে করেন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের হয়রানির কারণেও নেয়া হয়েছে।
তবে, কূটনীতিক বহিষ্কারের জবাবে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, মার্কিন কূটনীতিকদের জন্য তারা কোনো সমস্যা তৈরি করতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বহিষ্কার করতে চাই না।’ ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে তিনি বরং মার্কিন কূটনীতিকের পরিবারগুলোকে ক্রেমলিনে বড়দিনের উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক জোনাথন মারকাস মন্তব্য করেছেন, অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে মি. পুতিনের তরফে। পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের সম্ভাবনা ঝুলিয়ে রাখলেন আপাতত। 

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts

Powered by Blogger.

Blog Archive

Category

Most Viewed

Video Of the Day

Facebook

 
Copyright © 2014 Daily fresh news
Blogger Templates